শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজান মাসে ব্যায়াম করা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সারা দিন রোজা রেখে ব্যায়াম করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার সময় নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিক শক্তিও বৃদ্ধি পায়।
খালি পেটে ব্যায়াম করার কিছু উপকারিতা রয়েছে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমায়। যাঁরা সারা বছর ভারী ব্যায়াম করে থাকেন, তাঁদের রমজানে ব্যায়ামের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেওয়া উচিত। তবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না করে হালকা ব্যায়ামে মনোযোগ দেওয়া ভালো।
রমজানে ব্যায়ামের জন্য উপযুক্ত সময় নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সময় ব্যায়ামের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।
সাহরির আগে ফজরের আগে সাহরির জন্য ওঠার সময় কিছুটা হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। সাধারণত ফজরের নামাজের পরে অনেকেই হাঁটতে বা ব্যায়াম করতে বের হন। তবে রমজানে সাহরির আগেই কিছু হালকা ব্যায়াম সেরে নেওয়া যেতে পারে। এতে শরীর সজীব থাকে এবং শক্তি বাড়ে। তবে খাওয়ার আগে ব্যায়াম করার কারণে দ্রুত হজম হয়ে ক্ষুধার্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই খাদ্যতালিকায় ফাইবারযুক্ত খাবার রাখা উচিত।
ইফতারের আগে ইফতারের কিছুক্ষণ আগে ব্যায়াম করাও বেশ উপকারী হতে পারে। ব্যায়াম শেষে ইফতার করার সুযোগ থাকে বলে শরীর ক্লান্ত হলেও দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়। তবে দুর্বলতা অনুভব করলে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত।
ইফতারের পর ইফতারের পর ব্যায়াম করাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং আরামদায়ক। ইফতার শেষে শরীর পর্যাপ্ত পানীয় ও পুষ্টি গ্রহণ করে বলে এই সময় ব্যায়াম করলে শক্তি বেশি থাকে। পানি পান করা যায় বলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
সতর্কতা রমজানে ব্যায়াম করার সময় শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া উত্তম। হালকা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যায়াম করলে শরীরের জন্য উপকারী হয় এবং রোজা রাখার শক্তিও অব্যাহত থাকে।